তিন বছরের শিশু কথা না বললে পরিবার প্রথম এই প্রশ্নটিই করে। প্রশ্নটি যৌক্তিক, আর সৎ উত্তর হলো—শুধু শব্দ দিয়ে এর মীমাংসা হয় না। পেশাজীবীরা দেখেন, শিশুর কাছে যতটুকু যোগাযোগের ক্ষমতা আছে, সে সেটা কীভাবে ব্যবহার করছে।
শুধু কথা বলায় দেরি হলে শিশু সাধারণত
- আপনার দিকে তাকায়, জিনিস এনে দেয়, যা চায় সেদিকে আপনাকে টেনে নেয়।
- শুধু পাওয়ার জন্য নয়, দেখানোর জন্যও আঙুল দিয়ে ইশারা করে।
- বলতে যতটা পারে, বোঝে তার চেয়ে বেশি; ছোট নির্দেশ মানে।
- কল্পনার খেলা খেলে—পুতুলকে খাওয়ানো, শব্দ করে খেলনা গাড়ি চালানো।
- আনন্দ ভাগ করে নেয়: মজার কিছু হলে আপনার দিকে ফিরে তাকায়।
যেসব লক্ষণে অটিজম মূল্যায়ন দরকার
- চোখে চোখ কম রাখা এবং নিজের নামে সাড়া না দেওয়া—শ্রবণ পরীক্ষা করা থাকা সত্ত্বেও।
- শুধু আগ্রহ ভাগ করে নিতে খুব কমই ইশারা করা বা দেখানো।
- কল্পনার খেলা কম; খেলনার অংশে বেশি আগ্রহ, জিনিস সারি করে রাখা, একই ধারা বারবার করা।
- নিজে চাওয়ার বদলে ভিডিওর সংলাপ হুবহু বলা।
- রুটিন বদলালে তীব্র কষ্ট; শব্দ, স্পর্শ, আলো বা খাবারে অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।
- আগে পারত এমন শব্দ বা দক্ষতা হারিয়ে ফেলা—এটি সবসময় দেখানো উচিত।
নামের চেয়ে পরিকল্পনা কেন বেশি জরুরি
দুই অবস্থার মধ্যে মিল আছে, আর একটি শিশুর দুটোই থাকতে পারে। নামের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা: স্পিচ ও ল্যাঙ্গুয়েজের কাজ, খেলা ও মেলামেশায় সাহায্য এবং বাড়ির এমন রুটিন যেখানে যোগাযোগের অনেক ছোট সুযোগ তৈরি হয়। রোগনির্ণয় পরে নিশ্চিত হোক বা না হোক, প্রথম দিনের সহায়তা একই—তাই নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় বসে থাকা ভুল।
এখনই তিনটি কাজ
শ্রবণ পরীক্ষা করান, নিশ্চিত মনে হলেও। পেছনে চলতে থাকা স্ক্রিন কমান—এগুলো সেই আদান-প্রদানের মুহূর্তগুলো গিলে ফেলে, যেখানে ভাষা তৈরি হয়। আর শিশু যোগাযোগের জন্য যা যা করে তার ছোট একটি তালিকা রাখুন—ইশারা, শব্দ, টেনে নেওয়া, আঙুল দেখানো—কারণ যেকোনো পেশাজীবী প্রথমেই এই তালিকাটাই চাইবেন।
তথ্যসূত্র ও আরও পড়ুন
- CDC — Learn the Signs. Act Early.
- NHS — Speech and language delay in children
