মোবাইল, ট্যাব ও টিভি এখন সব জায়গায়। অনেক মা–বাবা খাওয়ানো বা ব্যস্ত সময় পার করতে এগুলো ব্যবহার করেন। উদ্দেশ্য অপরাধবোধ নয়; উদ্দেশ্য হলো ছোট শিশুর আসলে কী দরকার তা বোঝা এবং এমন ছোট পরিবর্তন আনা যা টিকে থাকে।
WHO-এর সুপারিশ
- ১ বছরের কম: স্ক্রিন টাইম সুপারিশ করা হয় না।
- ১ বছর: বসে বসে স্ক্রিন দেখা সুপারিশ করা হয় না।
- ২ থেকে ৪ বছর: দিনে ১ ঘণ্টার বেশি নয়। যত কম, তত ভালো।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভিডিও কল ভিডিও দেখার মতো নয়। এতে সত্যিকারের কথোপকথন হয়।
কেন এটা জরুরি
ছোট শিশু ভাষা ও সামাজিক দক্ষতা শেখে মূলত মুখোমুখি কথাবার্তা ও হাতে-কলমে খেলার মাধ্যমে। স্ক্রিনের সময় প্রায়ই এই মেলামেশার জায়গা নিয়ে নেয়, আর ঘুমের আগে স্ক্রিন দেখলে ঘুম আসতে দেরি হতে পারে।
স্ক্রিন কমানোর বাস্তব উপায়
- খাওয়া ও ঘুমের সময় দিয়ে শুরু করুন। খাওয়ার সময় আর ঘুমের আগের এক ঘণ্টা স্ক্রিনমুক্ত রাখুন। শুধু এই দুটি পরিবর্তনেই অনেকটা স্ক্রিন টাইম কমে যায়।
- দেখলে একসঙ্গে দেখুন। যা দেখছেন তা নিয়ে কথা বলুন। তাতে স্ক্রিনের সময়ও একসঙ্গে কাটানো সময় হয়ে ওঠে।
- স্ক্রিন চোখের আড়ালে রাখুন। টেবিলে মোবাইল থাকলে শিশু চাইবেই। অন্য ঘরে চার্জ দিলে সুবিধা হয়।
- সহজ বিকল্প রাখুন। হাঁড়ি-পাতিল, ব্লক, রং পেনসিল বা একটি বল ভরা ঝুড়িই অনেক সময় যথেষ্ট। দামি খেলনার দরকার নেই।
- সব পরিচর্যাকারীর সঙ্গে নিয়ম ঠিক করুন। দাদা-দাদি বা সহকারী মোবাইল দিয়ে শিশুকে শান্ত করলে অভ্যাসটা থেকেই যাবে। পরিকল্পনাটি সুন্দরভাবে জানিয়ে দিন।
- শুরুতে আপত্তি আসবে, ধরে নিন। শান্ত ও ধারাবাহিক থাকুন। বেশিরভাগ শিশু এক-দুই সপ্তাহে মানিয়ে নেয়।
নিজের স্ক্রিন ব্যবহারও দেখুন
বড়রা মোবাইলে ডুবে থাকলে শিশু তা খেয়াল করে। ছোট ছোট সময় পুরো মনোযোগ দেওয়া—যেমন বাসায় ফেরার পর প্রথম দশ মিনিট মোবাইল ছাড়া—ছোট শিশুর কাছে অনেক কিছু।
তথ্যসূত্র ও আরও পড়ুন
- WHO — Guidelines on physical activity, sedentary behaviour and sleep for children under 5 (2019)
- American Academy of Pediatrics — Media and young minds (2016)
