শিশুর ওজন একা খুব কম কথাই বলে। উচ্চতা, বয়স এবং কয়েক মাসের ধারার সঙ্গে মিলিয়ে দেখলেই তা অর্থবহ হয়। যে শিশু বরাবরই একটু ভারী কিন্তু নিয়মিত বাড়ছে, আর যার এক বছরেই হঠাৎ ওজন বেড়েছে—দুজনের অবস্থা এক নয়।
ওজন দ্রুত বাড়লে
শৈশবে দ্রুত ওজন বাড়ার বেশিরভাগ কারণই চিকিৎসাগত নয়, বরং প্রতিদিনের রুটিন: মিষ্টি পানীয়, ঘন ঘন প্যাকেটের খাবার, রাত জাগা, দীর্ঘ স্ক্রিন টাইম আর কম দৌড়ঝাঁপ। কিছু শিশুর ক্ষেত্রে হরমোন বা ওষুধজনিত কারণ থাকে—বিশেষ করে যখন ওজন বাড়ছে অথচ উচ্চতা বাড়া ধীর হয়ে গেছে। এই মিলটা দেখলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া দরকার।
ওজন ধীরে বাড়লে
যে শিশুর ওজন বাড়ছে না, সে হয়তো দেখতে যতটা মনে হয় তার চেয়ে কম খাচ্ছে, বারবার সংক্রমণ বা কৃমিতে পুষ্টি হারাচ্ছে, কিংবা খাবার শোষণে সমস্যা আছে। খাওয়ার টেবিলে জোরাজুরি অবস্থা আরও খারাপ করে। দীর্ঘদিন ওজন না বাড়লে, বিশেষ করে ক্লান্তি বা ধীর বৃদ্ধির সঙ্গে থাকলে, রুচির সিরাপ নয়—মূল্যায়ন দরকার।
বাড়িতে যা সত্যিই কাজ করে
- শুধু শিশুর প্লেট নয়, পুরো পরিবারের রুটিন বদলান। শিশু বড়দের দেখে শেখে।
- স্বাভাবিক পানীয় হোক পানি ও দুধ; কোমল পানীয় ও প্যাকেট জুস মাঝেমধ্যে।
- সারা সন্ধ্যা টুকটাক না খেয়ে নিয়মিত খাবার ও এক-দুটি নির্ধারিত নাশতা।
- কী ও কখন খাবে ঠিক করবেন বড়রা; কতটুকু খাবে ঠিক করবে শিশু। এই একটি নিয়মেই খাওয়ার বেশিরভাগ ঝগড়া শেষ হয়।
- বেশিরভাগ দিন এক ঘণ্টার দৌড়ঝাঁপ—দৌড়ানো, ওঠা, সাইকেল, যাতে শ্বাস দ্রুত হয়।
- পর্যাপ্ত ঘুম। কম ঘুমের সঙ্গে শিশুদের ওজন বাড়ার শক্ত সম্পর্ক আছে।
যা করবেন না
শিশুকে ওজন কমানোর ডায়েটে রাখবেন না, খাবার বাদ দেবেন না, বড়দের স্লিমিং পণ্য ব্যবহার করবেন না, আর অন্যদের সামনে তার শরীর নিয়ে মন্তব্য করবেন না। শৈশবে বাধা ও লজ্জা দেওয়ার সঙ্গে পরবর্তী জীবনে খাওয়ার সমস্যার সম্পর্ক আছে। লক্ষ্য এই মাসে ছোট একটা সংখ্যা নয়—ভালো অভ্যাস নিয়ে বেড়ে ওঠা একটি শিশু।
তথ্যসূত্র ও আরও পড়ুন
- WHO — Growth reference data for children
- NHS — Healthy weight in children
