দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সে অনেক শিশু শব্দ বা অক্ষর বারবার বলে, আটকে যায়, কিংবা কোনো শব্দকে টেনে লম্বা করে। বেশিরভাগের ক্ষেত্রে এটি একটি স্বাভাবিক পর্যায়, যা কেটে যায়—কারণ ভাষা যত দ্রুত বাড়ে, মুখ তত দ্রুত পেরে ওঠে না। কারও কারও ক্ষেত্রে এটি থেকে যায়, আর তখন আগেভাগে পরামর্শ নিলে সত্যিই পার্থক্য হয়।
বাড়িতে যা সাহায্য করে
- অপেক্ষা করুন। শিশুকে শেষ করতে দিন। শব্দ বা বাক্য আপনি বলে দেবেন না।
- নিজের কথা ধীর করুন এবং উত্তর দেওয়ার আগে একটু থামুন। শিশু চারপাশের গতির সঙ্গে মেলায়; “আস্তে বলো” বলার চেয়ে এটি বেশি কাজে দেয়।
- সে আটকে গেলে আপনার মুখ শান্ত রাখুন ও চোখে চোখ রাখুন—এতে সে বোঝে, আটকে যাওয়াটা দোষের নয়।
- পরপর প্রশ্ন করা কমান। বরং মন্তব্য করুন: টানা পাঁচটি প্রশ্নের বদলে “তোমার টাওয়ারটা তো অনেক উঁচু হয়েছে।”
- দিনে কয়েক মিনিট শুধু একজনের সঙ্গে, তাড়াহুড়ো ছাড়া ও স্ক্রিন ছাড়া কথা বলার সময় রাখুন।
- শিশু নিজে খেয়াল করলে খোলাখুলি বলুন: “শব্দটা আটকে গেল। এমন হয়। আমি শুনছি।”
যা করবেন না
“আস্তে বলো”, “আবার শুরু করো”, “শ্বাস নাও” বা “ভেবে বলো”—এসব বলবেন না। এগুলো সেই চাপটাই বাড়ায়, যা তোতলামি আরও বাড়ায়। ভাইবোনকে নকল করতে বা হাসতে দেবেন না, আর আটকে যাওয়ার সময় মেহমানদের সামনে ছড়া বলতে বা পড়তে বলবেন না।
যখন পরামর্শ নেওয়া উচিত
- প্রায় ছয় মাসের বেশি ধরে চলছে।
- ক্রমশ বেশি হচ্ছে বা বলতে বেশি কষ্ট হচ্ছে।
- স্পষ্ট কসরত দেখা যাচ্ছে—মুখে টান, চোখ পিটপিট, মাথা নাড়া, শ্বাস আটকে রাখা।
- শিশু শব্দ এড়িয়ে যায়, কম কথা বলে, বা বলে যে কথা বলতে চায় না।
- পরিবারে তোতলামির ইতিহাস আছে।
- প্রায় ৪–৫ বছর বয়সের পর নতুন করে শুরু হয়েছে।
শিশু খুব ছোট থাকতেও স্পিচ ও ল্যাঙ্গুয়েজ পেশাজীবী পরামর্শ দিতে পারেন, আর আগেভাগে নেওয়া পরামর্শ সাধারণত সংক্ষিপ্ত ও ব্যবহারিক হয়—বেশিরভাগই বড়দের আচরণে ছোট পরিবর্তন, শিশুর জন্য কোনো কসরত নয়।
তথ্যসূত্র ও আরও পড়ুন
- NHS — Stammering
- Stamma / British Stammering Association — Young children
