বাংলাদেশে অনেক শিশু বাড়িতে বাংলা, স্কুলে বা স্ক্রিনে ইংরেজি এবং কখনো আঞ্চলিক ভাষা বা আরবিও শোনে। অনেক মা–বাবা ভাবেন, এতে শিশু গুলিয়ে ফেলবে বা কথা বলা দেরি হবে। প্রমাণ কিন্তু আশ্বস্ত করে: দুই ভাষা শেখা কথা বলা দেরির কারণ নয়।
দুই ভাষার শিশুর জন্য যা স্বাভাবিক
- ভাষা মিশিয়ে বলা স্বাভাবিক। বাংলা বাক্যে একটি ইংরেজি শব্দ ঢুকে যেতে পারে। একে কোড-সুইচিং বলে, বড়রাও এমন করেন।
- দুই ভাষার শব্দ একসঙ্গে গুনুন। শিশু এক ভাষায় “পানি” আর অন্য ভাষায় “water” জানতে পারে। দুটো মিলিয়ে তার শব্দভান্ডার সাধারণত এক ভাষার শিশুর মতোই।
- একটি ভাষা বেশি শক্তিশালী হতে পারে। শিশু যে ভাষা বেশি শোনে, সেটি আগে এগোয়। জীবনযাত্রা বদলালে এটিও বদলাতে পারে।
দুই ভাষাকেই কীভাবে সাহায্য করবেন
- যে ভাষায় আপনি সবচেয়ে স্বচ্ছন্দ, সেটিতেই কথা বলুন। সমৃদ্ধ ও স্বাভাবিক কথা থেকেই শিশু সবচেয়ে বেশি শেখে। বাংলা বাদ দিয়ে সহজ ইংরেজিতে কথা বলতে গেলে অনেক সময় মোট কথাই কমে যায়।
- প্রতিটি ভাষার বাস্তব ব্যবহার রাখুন। মুখস্থ করানোর চেয়ে গল্প, গান, খেলা ও দৈনন্দিন রুটিনে ভাষার ব্যবহার বেশি কাজে দেয়।
- মিশিয়ে বললে বকবেন না। আপনি যে ভাষায় কথা বলছেন, সেই ভাষায় বাক্যটি আবার বলে দিন।
- সম্ভব হলে দুই ভাষাতেই বই পড়ুন। বাংলা ছবির বই ও ছড়া ইংরেজি বইয়ের মতোই দক্ষতা গড়ে তোলে।
কখন পরামর্শ নেবেন
দুই ভাষার শিশুর আসল ভাষাগত বিলম্ব দুটো ভাষাতেই দেখা যায়, শুধু নতুন ভাষায় নয়। কোনো ভাষাতেই যোগাযোগের স্বাভাবিক ধাপগুলো না হলে, বয়স অনুযায়ী তার কথা বোঝা খুব কঠিন হলে, অথবা আগে বলা শব্দ হারিয়ে গেলে চিকিৎসক বা যোগ্য স্পিচ ও ল্যাঙ্গুয়েজ পেশাজীবীর সঙ্গে কথা বলুন। শিশু কোন কোন ভাষা শোনে ও বলে তা জানিয়ে দিন, যাতে মূল্যায়ন সঠিক হয়।
তথ্যসূত্র ও আরও পড়ুন
- American Speech-Language-Hearing Association (ASHA) — Learning more than one language
- CDC — Milestones by 2 years
