অনেক পরিবারেই ভাগটা মুখে বলা হয় না: একজন সামলান খাওয়া, পড়া, ঘুম, অসুখ ও স্কুল; আরেকজনকে ডাকা হয় গুরুতর কিছু হলে। এটি খুব পরিচিত ব্যবস্থা, আর এর দাম চুপচাপ দিতে হয় শিশুকে, মাকে এবং বাবাকেও।
বাবা যুক্ত থাকলে যা বদলায়
যেসব শিশুর বাবা সক্রিয়ভাবে যুক্ত, তাদের ভাষা, আত্মবিশ্বাস ও আবেগ সামলানো সাধারণত ভালো হয়—বাবারা ভালো অভিভাবক বলে নয়, বরং আরও একজন যুক্ত বড় মানুষ মানে বেশি কথা, বেশি খেলা ও বেশি ধারাবাহিকতা। বাবারা সাধারণত খেলেনও আলাদাভাবে: বেশি শারীরিক, বেশি চ্যালেঞ্জ, সীমার মধ্যে বেশি ঝুঁকি—ঠিক যে ধরনের খেলা শিশুর দরকার এবং প্রায়ই যথেষ্ট পায় না।
আরেকটি প্রভাব সহজে চোখ এড়ায়। যে মা একাই সব ধরে রাখেন, তিনি ক্লান্ত; আর ক্লান্ত অভিভাবকের ধৈর্য কম থাকে। দায়িত্ব ভাগ করে নিলে পুরো ঘরের তাপমাত্রাই বদলে যায়।
ছোট করে শুরু, তারপর ধরে রাখা
- একটি রুটিন পুরোপুরি নিজের করে নিন—গোসল, ঘুমপাড়ানি গল্প, স্কুলে দেওয়া-আনা বা সকালের নাশতা। সব কাজে সাহায্য করার চেয়ে একটি কাজের পুরো দায়িত্ব নেওয়া ভালো।
- দিনে পনেরো মিনিট শিশুর পছন্দের খেলা। সে বেছে নেবে, আপনি অনুসরণ করবেন—হাতে মোবাইল নয়, ভুল ধরা নয়, শেখানোর চেষ্টা নয়।
- শারীরিক খেলাটা আপনি করুন, যেটা অন্যরা এড়িয়ে যান: দৌড়ে ধরা, কুস্তি, ওঠা, কাঁধে তোলা। এতে শরীরও গড়ে, সম্পর্কও।
- খুঁটিনাটি জানা মানুষদের একজন হোন—শিক্ষকের নাম, কোন বন্ধুর সঙ্গে ঝগড়া, এ মাসে কোন খাবারটা সে খেতে চাইছে না।
- নিয়মগুলো মায়ের সঙ্গে আড়ালে ঠিক করুন, আর শিশুর সামনে একই কথা বলুন। দুই বড় মানুষের মধ্যে ফাঁক থাকলে শিশু সেখানেই সবচেয়ে বেশি চেষ্টা করে।
বাবা যদি দূরে থাকেন বা দীর্ঘ সময় কাজ করেন
পরিমাণের চেয়ে ধারাবাহিকতা বেশি জরুরি। প্রতিদিন একই সময়ে ছোট একটি কল, ছুটির দিনে একটি নির্দিষ্ট কাজ এবং শিশুর সপ্তাহে কী ঘটছে তা জানা—মাঝেমধ্যে বড় কোনো ঘোরাঘুরির চেয়ে অনেক বেশি কাজে দেয়। শিশুর মনে থাকে নিয়মিত তাকে নিয়ে কেউ ভাবত, দামি বিনোদন নয়।
তথ্যসূত্র ও আরও পড়ুন
- UNICEF — Fatherhood and early childhood development
- Fatherhood Institute — Research summaries
