বাংলাদেশের অনেক মা–বাবা দীর্ঘ সময় কাজ করেন বা দূরে যাতায়াত করেন, কেউ কেউ বিদেশে থাকেন। সময় কম দিতে পারার অপরাধবোধ খুব সাধারণ। গবেষণা আশ্বস্ত করে: উষ্ণ ও নির্ভরযোগ্য সম্পর্ক এবং ধারাবাহিক যত্ন পেলে শিশু ভালোভাবে বেড়ে ওঠে। শুধু মা–বাবার চাকরি করা শিশুর বিকাশ নির্ধারণ করে না।
যে ছোট অভ্যাসগুলো গুরুত্বপূর্ণ
- দশ মিনিটের পুরো মনোযোগ। প্রতিদিন কয়েক মিনিট মোবাইল সরিয়ে শিশু যা বেছে নেয় তাই করুন। অন্যমনস্ক দীর্ঘ সময়ের চেয়ে শিশু এটাই বেশি মনে রাখে।
- ফিরে আসার অভ্যাস। বাসায় ফেরার প্রথম কয়েক মিনিট দিনের সুর ঠিক করে দেয়। কাজে হাত দেওয়ার আগে বসুন, জড়িয়ে ধরুন, শুনুন।
- ঘুমের সময় একসঙ্গে। একটি গল্প, একটি গান বা দিনের ছোট গল্প দিনের সবচেয়ে প্রিয় সময় হয়ে উঠতে পারে।
- ছুটির দিনের রুটিন। নিয়মিত হাঁটা, একসঙ্গে বাজারে যাওয়া বা একটি পদ একসঙ্গে রান্না শিশুকে অপেক্ষা করার মতো কিছু দেয়।
দূরে থাকলেও যুক্ত থাকা
- অনিয়মিত লম্বা কলের চেয়ে নির্দিষ্ট সময়ে ছোট ও নিয়মিত ভিডিও কল বেশি কাজে দেয়।
- গল্প পড়া বা গান গাওয়ার রেকর্ড রাখুন, যা পরিচর্যাকারী ঘুমের সময় শোনাতে পারেন।
- পরিচর্যাকারীকে দিনের একটি ছোট মুহূর্ত জানাতে বলুন, যাতে পরে তা নিয়ে কথা বলতে পারেন।
পরিচর্যাকারীর সঙ্গে মিলে কাজ
দিনের বেলা দাদা-দাদি, নানা-নানি, আত্মীয় বা সহকারী শিশুর দেখাশোনা করলে একটি যৌথ পরিকল্পনাই শিশুর জন্য সবচেয়ে ভালো: খাওয়া ও ঘুমের কাছাকাছি রুটিন, স্ক্রিন নিয়ে একই নিয়ম এবং কান্না ও জেদের সময় একই রকম সাড়া। প্রতিদিন ছোট একটি হস্তান্তর, এমনকি মেসেজেও, সবাইকে জানিয়ে রাখে।
নিজের যত্নও নিন
ক্লান্ত ও চাপে থাকা মা–বাবার ধৈর্য রাখা কঠিন হয়। বড়দের মধ্যে কাজ ভাগ করা, সাহায্য চাওয়া ও কিছুটা বিশ্রাম রক্ষা করা পুরো পরিবারের জন্য ভালো। চাপ বা মন খারাপ দীর্ঘদিন থাকলে চিকিৎসক বা কাউন্সেলরের সঙ্গে কথা বলা বুদ্ধিমানের কাজ।
