অনেক পরিবারে শিশুর দেখাশোনা করেন মা–বাবা, দাদা-দাদি, নানা-নানি, খালা-ফুপু, বড় ভাইবোন এবং কখনো একজন সহকারী। এটি সত্যিকারের শক্তি: শিশুকে ভালোবাসার মানুষ বেশি, হাতও বেশি। তবে এতে মিশ্র বার্তাও যেতে পারে। একজন খাওয়ার সময় মোবাইল দেন, আরেকজন দেন না। কান্না থামাতে একজন মিষ্টি দেন, আরেকজন বকা দেন।
ধারাবাহিকতা শিশুকে কেন সাহায্য করে
বারবার একই রকম, অনুমানযোগ্য সাড়া থেকে ছোট শিশু শেখে কী আশা করা যায়। মানুষভেদে নিয়ম বদলালে শিশু প্রায়ই সীমা বেশি পরীক্ষা করে, আর বড়দের মধ্যেও মতবিরোধ বাড়ে।
গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে একমত হোন
সবকিছুতে একমত হওয়ার দরকার নেই। প্রতিদিনের জন্য সবচেয়ে জরুরি কয়েকটি বিষয়ে মন দিন:
- ঘুম ও খাওয়ার সময়।
- স্ক্রিন: কখন, কতক্ষণ, আর কী দেখা যাবে।
- মিষ্টি ও নাশতা।
- কান্না, মারামারি ও জেদের সময় কীভাবে সাড়া দেবেন।
- নিরাপত্তার নিয়ম: রাস্তা, পানি, সিঁড়ি, ওষুধ ও পরিষ্কারের রাসায়নিক।
সম্মান রেখে কীভাবে মেলাবেন
- শান্ত সময়ে কথা বলুন, মতবিরোধের মাঝখানে বা শিশুর সামনে নয়।
- অভিন্ন লক্ষ্য দিয়ে শুরু করুন। সবাই চান সুস্থ, আনন্দিত ও ভদ্র একটি শিশু।
- অভিজ্ঞতার মূল্য দিন। দাদা-দাদি আগেও সন্তান মানুষ করেছেন। তাঁদের কী কাজে দিয়েছিল জিজ্ঞেস করুন, আর কী বদলেছে ও কেন, তা বুঝিয়ে বলুন।
- রুটিনটি লিখে রাখুন এবং চোখে পড়ে এমন জায়গায় লাগান, যেমন ফ্রিজের দরজায়।
- দায়িত্ব বদলের সময় ছোট হস্তান্তর রাখুন: শিশু কেমন ঘুমিয়েছে, খেয়েছে, কেমন ছিল, অস্বাভাবিক কিছু হয়েছে কি না।
মতবিরোধ চলতে থাকলে
কিছু পার্থক্য থাকলেই চলে; শিশু শিখতে পারে “নানুর বাসায় আমরা এভাবে করি”। জরুরি হলো নিরাপত্তার গুরুতর নিয়ম আর কঠিন আচরণে সাড়া দেওয়ার ধরন এক থাকা। শিশুর যত্ন নিয়ে মতবিরোধ দীর্ঘদিন চাপ তৈরি করলে পারিবারিক কাউন্সেলর বা শিশু বিকাশ পেশাজীবী সবাইকে একটি মধ্যপথ খুঁজে পেতে সাহায্য করতে পারেন।
তথ্যসূত্র ও আরও পড়ুন
- UNICEF — Parenting
- World Health Organization — Nurturing care for early childhood development (2018)
