বড়দের চোখে খেলা শেখা থেকে বিরতির মতো লাগতে পারে। ছোট শিশুর জন্য খেলাই শেখার প্রধান উপায়। খেলার মধ্যে সে নানা ধারণা যাচাই করে, নড়াচড়া অনুশীলন করে, অনুভূতি সামলায় এবং পালা করে খেলতে শেখে।
আদান-প্রদানের মুহূর্তগুলো মস্তিষ্ক গড়ে
হার্ভার্ডের সেন্টার অন দ্য ডেভেলপিং চাইল্ডের গবেষকেরা একে বলেন “সার্ভ অ্যান্ড রিটার্ন”: শিশু আওয়াজ করে, আঙুল দেখায় বা খেলনা তুলে ধরে, আর বড়রা তাকিয়ে, কথা বলে বা হেসে সাড়া দেন। দিনে বহুবার এমন ছোট আদান-প্রদান মস্তিষ্কের সেই সংযোগগুলো গড়তে সাহায্য করে, যা পরে ভাষা ও শেখার ভিত্তি হয়।
বিশেষ কোনো কার্যক্রমের দরকার নেই। শিশু কী নিয়ে আগ্রহী তা খেয়াল করে সাড়া দেওয়াই যথেষ্ট।
ভিন্ন খেলা, ভিন্ন দক্ষতা
- ভান করে খেলা (হাঁড়ি-পাতিলে রান্না, দোকান দোকান খেলা) ভাষা, কল্পনা ও অন্যকে বোঝার ক্ষমতা গড়ে।
- বানানো ও সাজানো (ব্লক, কাপ, ঢাকনা) সমস্যা সমাধান এবং বড়-ছোট, বেশি-কমের মতো প্রাথমিক গণিতের ধারণা তৈরি করে।
- দৌড়ঝাঁপের খেলা (দৌড়, বেয়ে ওঠা, বল খেলা) শক্তি, ভারসাম্য ও সমন্বয় বাড়ায়।
- মাখামাখির খেলা (পানি, বালি, আটার দলা) হাতের নিয়ন্ত্রণ বাড়ায় এবং নানা স্পর্শে অভ্যস্ত করে।
- অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলা পালা করা, ভাগ করা ও হতাশা সামলাতে শেখায়।
বড়রা কীভাবে সাহায্য করবেন
- কিছু সময় শিশুকে নেতৃত্ব দিতে দিন। প্রতিটি ধাপ বলে না দিয়ে তার ভাবনা অনুসরণ করুন।
- প্রশ্নের বদলে বর্ণনা করুন। “এটা কী রং?” জিজ্ঞেসের চেয়ে “তুমি লাল ব্লকটা ওপরে রাখলে” বললে কথা বেশি এগোয়।
- একটু চেষ্টা করতে দিন। সাহায্যের আগে একটু অপেক্ষা করলে শিশু নিজে সমাধানের চেষ্টা করতে পারে।
- মুক্ত সময় রক্ষা করুন। ক্লাস আর স্ক্রিনে ভরা দিনে নিজের মতো খেলার জায়গা থাকে না।
ইলেকট্রনিক খেলনার চেয়ে ঘরের সাধারণ জিনিস অনেক সময় ভালো খেলনা, কারণ তাতে ভাবনা আর আওয়াজ শিশুকে নিজেই জোগাতে হয়।
তথ্যসূত্র ও আরও পড়ুন
- Center on the Developing Child, Harvard University — Serve and return
- American Academy of Pediatrics — The power of play (2018)
